| বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে জামায়াতের ইফতার দাওয়াত: ২৮ ফেব্রুয়ারি আসছেন প্রধানমন্ত্রী |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-02-2026 ইং
  • 1911533 বার পঠিত
তারেক রহমানকে জামায়াতের ইফতার দাওয়াত: ২৮ ফেব্রুয়ারি আসছেন প্রধানমন্ত্রী |
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানকে জামায়াতের ইফতার দাওয়াত

রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ও তারেক রহমানকে জামায়াতের ইফতার দাওয়াত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি রমজান মাসই কোনো না কোনো নতুন সমীকরণের বার্তা নিয়ে আসে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব, কিংবা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি বাঁকেই ইফতার মাহফিলগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া সেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ঐক্যেরই এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার মুসলিম সমাজে ইফতার মাহফিল কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর বাসভবন আহসান মঞ্জিলে ইফতারের আয়োজনগুলো ছিল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র। পাকিস্তান আমলে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আশির ও নব্বইয়ের দশকে ইফতার মাহফিলগুলো হয়ে ওঠে জোট রাজনীতির তুরুপের তাস।

১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তা ২০০১ সালে চারদলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে ২০২৪ সালের বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান বাংলাদেশে এই দুই দলের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ১৯ শতকের গোড়ায় যেমন মুসলিম নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াই করেছিলেন, ২০২৬ সালের এই ইফতার মাহফিল মূলত সেই সংহতির আধুনিক সংস্করণ।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে দাওয়াতপত্র: গোলাম পরওয়ারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের পক্ষ থেকে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের আনুষ্ঠানিক দাওয়াত প্রদান।

দাওয়াত প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠানে তাঁকে সপরিবারে অংশ নেওয়ার জন্য আমিরে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক দাওয়াত দিয়েছি।"

দাওয়াত কবুল ও তারেক রহমানের আন্তরিকতা

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দাওয়াতপত্র গ্রহণ করেছেন এবং ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, তাঁর স্ত্রী এবং কন্যাকেও সেখানে যাওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, তখন দেশের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি: ২০২৬-এর নতুন চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক বিভাজন ও সংঘাত দেখা গেছে। তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে 'সহনশীলতা ও সমঝোতার' এক নতুন বাতাবরণ তৈরি করেছে। তারেক রহমানের ইফতার মাহফিলে যাওয়ার এই সম্মতি প্রমাণ করে যে, বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারির এই ইফতার কেবল খাবার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি হতে পারে আগামীর জাতীয় ঐক্যের এক শক্তিশালী বার্তা।


সূত্র: যুগান্তর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency